এপ্রিল-জুন

বিশ্বের সাত শীর্ষ কোম্পানির ১৪৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা

মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, এনভিডিয়া ও টেসলা বিশ্বের বৃহত্তম এ সাত কোম্পানি পুঁজিবাজারে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ হিসেবে পরিচিত।

মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, এনভিডিয়া ও টেসলা বিশ্বের বৃহত্তম এ সাত কোম্পানি পুঁজিবাজারে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে এ কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আনাদোলু জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সাত কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৪৩ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার নিট মুনাফা করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সামনের দিনগুলোয় মার্কিন শুল্কনীতিসহ বিস্তৃত আর্থিক প্রতিবন্ধকতার আঁচ লাগতে পারে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের আয় ও মুনাফায়।

পুঁজিবাজারের মোট মূলধনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন কোম্পানিগুলো। মূলত প্রযুক্তি-উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা, কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স থেকে থেকে সাম্প্রতিক পুঁজিবাজারের গতিপ্রকৃতিও অনুধাবনযোগ্য। বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশ কোম্পানিগুলোর আয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় গত এপ্রিল-জুনে সাত কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ১৪০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ এবং জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

এছাড়া বার্ষিক ভিত্তিতে কোম্পানিগুলো মূলধনি ব্যয় ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। প্রান্তিক ভিত্তিতে মূলধনি ব্যয় বৃদ্ধির হার ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই ও ডাটা সেন্টার বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের গতি বাড়িয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর। ফলে মূলধনি ব্যয়ে উল্লম্ফন ঘটেছে।

জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে সাত কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ নিট মুনাফাধারী ছিল গুগলের প্যারেন্ট অ্যালফাবেট, যার আকার ২ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। তালিকায় অ্যালফাবেটের পরে থাকা মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, মেটা, অ্যামাজন ও টেসলার নিট মুনাফা যথাক্রমে ২ হাজার ৭২০ কোটি, ২ হাজার ৬৪০ কোটি, ১ হাজার ৮৩০ কোটি, ১ হাজার ৮২০ কোটি ও ১২০ কোটি ডলার।

প্রান্তিক ভিত্তিতে নিট মুনাফার বৃদ্ধির হার বেশি ছিল টেসলার। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তুলনায় নিট মুনাফা ১৮৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এপ্রিল-জুনে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় এনভিডিয়ার নিট মুনাফা বেড়েছে ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর মেটা, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের বেড়েছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ২, ৬ দশমিক ১ ও ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে অ্যালফাবেট ও অ্যাপলের মুনাফা কমেছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৪ ও ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত অ্যালফাবেটের মুনাফা বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ৩ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার থেকে কমে এবার নেমে এসেছে ২ হাজার ৮২০ কোটি ডলারে।

বার্ষিক ভিত্তিতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ নিট মুনাফা বেড়েছে এনভিডিয়ার। এরপর রয়েছে মেটা, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যাপল যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ২, ৩৪ দশমিক ৭, ২৩ দশমিক ৬, ১৯ দশমিক ৪ ও ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

মোট আয়ের নিরিখে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৬ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার নিয়ে এগিয়ে রয়েছে অ্যামাজন। এরপর অ্যালফাবেট, অ্যাপল, মেটা, এনভিডিয়া ও টেসলা আয় করেছে যথাক্রমে ৯ হাজার ৬৪৯ কোটি, ৯ হাজার ৪০০ কোটি, ৪ হাজার ৭৫০ কোটি, এনভিডিয়া ৪ হাজার ৬৭০ কোটি ও ২ হাজার ২৫০ কোটি ডলার।

প্রান্তিক ভিত্তিতে আয় বৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে টেসলা, কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি রয়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের মধ্যে একমাত্র অ্যাপলের আয় কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। বার্ষিক ভিত্তিতে এনভিডিয়ার আয় সর্বোচ্চ ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, তার টেসলার আয় কমেছে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মূলধনি ব্যয়ে অ্যামাজন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২২০ কোটি ডলার খরচ করেছে। এরপর অ্যালফাবেট, মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, টেসলা ও এনভিডিয়া খরচ করেছে যথাক্রমে ২ হাজার ২৫৯ কোটি, ১ হাজার ৭৩০ কোটি, মাইক্রোসফট ১ হাজার ৭১০ কোটি, ৩৫০ কোটি, ২৪০ কোটি ও ১৯০ কোটি ডলার।

শেয়ারপ্রতি আয়ের হিসাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শীর্ষে ছিল মেটা। কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৭ ডলার ৩০ সেন্ট। এরপর মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলা শেয়ারপ্রতি আয় করেছে যথাক্রমে ৩ ডলার ৭০ সেন্ট, ২ ডলার ৩০, ১ ডলার ৭০, ১ ডলার ৬০, ১ ডলার ১০ ও ৪০ সেন্ট।

এদিকে ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আর্থিক প্রতিবেদনে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক সর্বকালের শীর্ষ থেকে নেমে গেছে। এতে চাপ সৃষ্টি করেছে মার্কিন শ্রমবাজার, উচ্চ শুল্ক ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার বৃদ্ধি।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি আগের মতো শক্তিশালী নাও হতে পারে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনা ভবিষ্যতের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া রিয়েল এস্টেট ও জ্বালানির মতো অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ আগ্রহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

আরও